দেশের এনার্জি খাতে টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি এবং ফ্লোکو বাংলাদেশ লিমিটেড যৌথভাবে পেট্রোল পাম্প মালিকদের জন্য বিশেষ সবুজ (Green) ফাইন্যান্সিং সুবিধা চালু করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি খাতের স্থলভিত্তিক (downstream) সেক্টরে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিস্তার নিশ্চিত করা।
প্রাইম ব্যাংকের কর্পোরেট অফিসে এক সংবিধিবদ্ধ চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চুক্তি অনুসারে, eligible পেট্রোল পাম্প মালিকরা উন্নত পরিবেশ প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য প্রাইম ব্যাংক থেকে সহজলভ্য আর্থিক সমাধান পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ফুয়েল ট্যাঙ্ক পরিষ্কার ব্যবস্থাপনা, স্লাজ (sludge) অপসারণ প্রক্রিয়া এবং বাষ্প নির্গমন হ্রাস করার প্রযুক্তি।
প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম. নজিম এ. চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা উচ্চ প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধব সমাধান এবং সহজলভ্য ফাইন্যান্সিংয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে চাই। ফ্লোকো বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করছে যে, পেট্রোল পাম্প মালিকরা তাদের স্থাপনাগুলো আধুনিকীকরণ করতে পারবে এবং জাতীয় টেকসই লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখতে পারবে।”
চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রাইম ব্যাংকের এম. নজিম এ. চৌধুরী এবং ফ্লোকো বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদ ইফতার হোসেন। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, অ্যাক্টিং হেড অফ এসএমই বিজনেস, এবং শায়খ নূর আলম, হেড অফ এস বিজনেস অ্যান্ড রিফাইন্যান্স প্রাইম ব্যাংক থেকে, এছাড়া ফ্লোকো বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান মরুফ আলমও উপস্থিত ছিলেন।
এই যৌথ উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতের সবুজ সংস্কারের প্রসার ঘটাবে, ক্লিন ফুয়েল রিটেল কার্যক্রম উন্নত করবে এবং জাতীয় জলবায়ু কর্মসূচিতে অবদান রাখবে।
সবুজ ফাইন্যান্সিং উদ্যোগের মূল বৈশিষ্ট্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাপ্য ব্যাক্তি | বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্প মালিকরা |
| অর্থায়নের উদ্দেশ্য | উন্নত ট্যাঙ্ক ক্লিনিং, স্লাজ অপসারণ, বাষ্প নির্গমন হ্রাস প্রযুক্তি |
| সুবিধা | কম প্রারম্ভিক বিনিয়োগ, আইনগত সম্মতি, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি |
| অংশীদার | প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ও ফ্লোকো বাংলাদেশ লিমিটেড |
| পরিবেশগত প্রভাব | জাতীয় টেকসই লক্ষ্য সমর্থন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি |
এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক এবং ফ্লোকো বাংলাদেশ প্রমাণ করছে যে, আর্থিক উদ্ভাবন দেশের এনার্জি খাতে পরিবেশগত স্থায়িত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
