বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাসী আয় সংক্রান্ত নতুন হালনাগাদ প্রতিবেদন

চলতি ২০২৬ সালের জুন মাসের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশে ৪৮৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বছরের জুনের শুরুতে রেমিট্যান্স আসার গতি কিছুটা ধীর। গত বছরের জুন মাসের প্রথম তিন দিনের রেমিট্যান্স প্রবাহের সাথে তুলনা করলে এই বছর একই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জুন মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহের দৈনিক ও তুলনামূলক চিত্র

আজ ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ডলার ক্রয় সংক্রান্ত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই তথ্যানুযায়ী, জুন মাসের প্রথম তিন দিনে যে মোট ৪৮৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, তার মধ্যে কেবল ৩ জুন এক দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১১৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তুলনামূলক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম তিন দিনে (১ থেকে ৩ জুন ২০২৫) দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬০৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি ২০২৬ সালের জুন মাসের একই সময়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে, যা জুনের শুরুতে প্রবাসী আয় আহরণে সাময়িক কিছুটা ধীরগতির চিত্র নির্দেশ করে।

সামগ্রিক অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি

চলতি জুন মাসের প্রথম তিন দিনে রেমিট্যান্সের গতি কিছুটা কম থাকলেও সামগ্রিকভাবে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৫ থেকে শুরু করে ৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশে মোট ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২৪ কোটি ডলারের বিশাল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের সাথে তুলনা করলে চলতি অর্থবছরের এই অর্জন যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কারণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সময়ে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসার মোট পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে বিগত অর্থবছরের সেই একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, এই সময়ে রেমিট্যান্স খাতে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির এই হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হালনাগাদ অর্থনৈতিক সূচক ও পরিসংখ্যানটি স্পষ্ট করে যে, জুনের প্রথম তিন দিনে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রবাসী আয়ের সাময়িক পতন ঘটলেও, দীর্ঘমেয়াদে পুরো অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি বড় ও টেকসই ধরনের প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে দেশের এই বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলারের প্রবাহ এবং ক্রয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

Leave a Comment