ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের এক জরুরি সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এই সভা ব্যাংকের নবনিযুক্ত সভাপতি খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি কোনো সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াই দূরসংযোগভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এতে পর্ষদের মোট পাঁচজন সদস্য অংশগ্রহণ করেন বলে জানা যায়।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের দাখিল করা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইনকে সাময়িকভাবে দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
দিনভর রাজধানীর দিলকুশা এলাকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকদের একটি অংশের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকে। তারা নতুন সভাপতির নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান ও শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, পর্ষদের এই সভা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে দূরসংযোগভিত্তিক মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বশরীরে সভা হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আয়োজন করতে হতো, তবে দূরসংযোগভিত্তিক পদ্ধতিতে সময়সীমার বাইরে হলেও তা নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য।
নবনিযুক্ত সভাপতি খুরশীদ আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিচালনা কাঠামো নিয়ে নানা আলোচনা ও মতবিরোধ তৈরি হয়। এর আগে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি একবার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে তাকে পুনরায় সভাপতির দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়। এই পুনর্নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের একটি অংশে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে পূর্ববর্তী সভাপতি অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে শীর্ষ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ওই দিন রাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন সভাপতি নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হলেও দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
পর্ষদ সভা ও সিদ্ধান্তসমূহের সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সভার সময় | ১ জুন, গভীর রাত |
| অংশগ্রহণকারী | পর্ষদের পাঁচজন সদস্য |
| সভাপতিত্ব | নবনিযুক্ত সভাপতি খুরশীদ আলম |
| প্রধান সিদ্ধান্ত | ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগ গ্রহণ |
| ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব | আলতাফ হোসাইন সাময়িকভাবে দায়িত্বে বহাল |
| সভার মাধ্যম | দূরসংযোগভিত্তিক ব্যবস্থা |
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন পরিবর্তন কার্যকর হলো, যা আগামী দিনে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও পরিচালন কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
