কর সংস্কার প্রস্তাব জোরদার আহ্বান

ঢাকা মহানগর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সরকারের বিদ্যমান কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ব্যবসা খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। সংগঠনটির মতে, বর্তমান কর ব্যবস্থা ব্যবসা পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, প্রশাসনিক জটিলতা বাড়াচ্ছে এবং একই আয়ের ওপর একাধিকবার কর আরোপের ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ দুর্বল হচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংগঠনটি বলেছে, স্থূল আয়ের ওপর আরোপিত টার্নওভার কর বর্তমানে এক শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক তিন শতাংশ করা উচিত। তাদের মতে, উচ্চ হারের এই কর ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ধরনের ব্যবসার নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে।

রপ্তানি খাতে উৎসে কর কর্তনের হার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে রপ্তানিকারকদের কার্যকর মূলধন বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে অগ্রিম কর কর্তনের কারণে উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা মনে করে।

আমদানি পর্যায়ে উৎসে কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির খরচ কমবে এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় লেনদেনে পণ্যের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় উৎসে কর এক থেকে তিন শতাংশের মধ্যে নমনীয়ভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্যাকেজিং সামগ্রীর ওপর তিন শতাংশ কর নির্ধারণ করে একটি স্পষ্ট ও একীভূত কাঠামো তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। ফেরতযোগ্য কর ব্যবস্থার জটিলতা কমাতে “কোনো উৎসে কর নয়” সনদ প্রদানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের নগদ প্রবাহ সহজ করবে এবং দীর্ঘসূত্রতা কমাবে।

সংগঠনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপের কারণে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই একটি সহায়ক করনীতি ও বাস্তবসম্মত বাজেট কাঠামো এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, কর ব্যবস্থা সহজ ও স্বচ্ছ হলে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে।

নিচে প্রস্তাবিত কর কাঠামোর তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—

খাতবর্তমান হারপ্রস্তাবিত হারউদ্দেশ্য
টার্নওভার করএক শতাংশশূন্য দশমিক তিন শতাংশব্যবসায়িক চাপ হ্রাস
রপ্তানি খাতপরিবর্তনশীলশূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশপ্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি
আমদানি খাতপাঁচ শতাংশতিন শতাংশউৎপাদন ব্যয় কমানো
দেশীয় লেনদেনএক শতাংশএক থেকে তিন শতাংশঝুঁকি অনুযায়ী কর নির্ধারণ
প্যাকেজিং সামগ্রীঅনির্দিষ্টতিন শতাংশকাঠামো স্পষ্টকরণ

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সরলতা বাড়বে। এতে ব্যবসা পরিবেশ আরও বিনিয়োগবান্ধব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতে পারে।

Leave a Comment