বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি দেশের খাদ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান কর কাঠামো ও নীতিগত বৈষম্য দূর করার জোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, একই ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন উপখাতে করহার, নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি তদারকিতে যে ভিন্নতা রয়েছে, তা বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে ব্যাহত করছে এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার একটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে, যা ইতিবাচক। তবে খাদ্যসেবা খাতকে নীতিগত কাঠামোয় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রান্না ও খাদ্য পরিবেশনে ব্যবহৃত জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয় বহুগুণে বেড়েছে। এতে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়ে টিকে থাকার সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাতটিকে বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদান এখন সময়ের দাবি।
সংগঠনটির নেতাদের মতে, বর্তমান কর কাঠামোতে রেস্তোরাঁ খাতে করহার তুলনামূলকভাবে কম হলেও ক্যাটারিং সেবায় তা অনেক বেশি। একই ধরনের খাদ্যসেবা কার্যক্রম হওয়া সত্ত্বেও এই ভিন্নতা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে স্ট্রিট ফুড খাত প্রায় সম্পূর্ণভাবে কর ও নিবন্ধন ব্যবস্থার বাইরে থাকায় একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে আলাদা আলাদা অনুমোদন নিতে হয় বলে নেতারা অভিযোগ করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অগ্নিনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভাসহ একাধিক দপ্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা একটি একক সমন্বিত অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান, যেখানে সব ধরনের লাইসেন্স ও তদারকি একটি কেন্দ্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
সংগঠনটির মতে, একটি আধুনিক ও সমন্বিত শিল্পনীতি প্রণয়ন করা গেলে খাদ্যসেবা খাত আরও সংগঠিত হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসারিত হবে। পাশাপাশি কর কাঠামো সহজ ও সমান হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
নিচে খাদ্যসেবা খাতের বিদ্যমান কর কাঠামোর একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো—
| খাতের ধরন | বিদ্যমান কর হার | পরিস্থিতি ও মন্তব্য |
|---|---|---|
| রেস্তোরাঁ ব্যবসা | পাঁচ শতাংশ | তুলনামূলক কম করহার, কিছুটা সুবিধাজনক |
| ক্যাটারিং সেবা | পনেরো শতাংশ | উচ্চ করহার, বৈষম্যের অভিযোগ বিদ্যমান |
| স্ট্রিট ফুড | অনির্ধারিত | কর ও নিবন্ধনের বাইরে, নিয়ন্ত্রণ অনুপস্থিত |
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা। তারা একমত হয়ে বলেন, খাদ্যসেবা খাতে যদি সমতাভিত্তিক নীতিমালা ও সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা যায়, তবে শুধু উদ্যোক্তাদের ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
