ব্র্যাক ব্যাংক ৭৮ জন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সেলাই মেশিন প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৪৪ জন নারী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের স্বনির্ভর জীবনযাপন ও আয়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীরা ছয় মাসব্যাপী একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। এই প্রশিক্ষণ ও ব্যবসা পরিচালনা বিষয়ক শিক্ষা দেওয়া হয় ব্র্যাক ব্যাংকের “অপরাজেয় আমি” কর্মসূচির আওতায়, যা বাংলাদেশ বধির ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়িত হয়।
২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ বধির ফেডারেশন যৌথভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন ও সনদপত্র বিতরণ করে। এই সহায়তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ঘরে বসে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা অথবা কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শনের জন্য একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করেন। ইতোমধ্যে ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে চাকরি পেয়েছেন, যা এই কর্মসূচির বাস্তব প্রভাবকে নির্দেশ করে।
এই কর্মসূচির পাঠ্যক্রম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী ও কার্যকর দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। ব্র্যাক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ বধির ফেডারেশন নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণকারীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অর্থ হলো সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে সক্ষম করে তোলা। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করে টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ বধির ফেডারেশনের প্রশাসক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ আত্মনির্ভরতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
কর্মসূচির প্রধান তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অংশগ্রহণকারী সংখ্যা | ৭৮ জন |
| নারী অংশগ্রহণকারী | ৪৪ জন |
| প্রশিক্ষণের সময়কাল | ৬ মাস |
| কর্মসূচির নাম | অপরাজেয় আমি |
| সহযোগী প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ বধির ফেডারেশন |
| কর্মসূচি উদ্বোধনের তারিখ | ২৩ এপ্রিল ২০২৬ |
| প্রদত্ত সহায়তা | সেলাই মেশিন ও সনদপত্র |
| ইতোমধ্যে চাকরি পাওয়া | ২০ জন |
এই উদ্যোগটি শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বনির্ভর জীবন গঠনের ক্ষেত্রে একটি কাঠামোবদ্ধ সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
