দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। এর ফলে এখন থেকে সাধারণ গ্রাহকেরা ব্যাংকে না গিয়েই বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় বা ডিপিএস সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ডিজিটাল এই অন্তর্ভুক্তির ফলে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে।
Table of Contents
সঞ্চয় সেবার বিস্তারিত তথ্য
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ইস্টার্ন ব্যাংকের এই সঞ্চয় স্কিমটি অত্যন্ত নমনীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। গ্রাহকেরা তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাসিক কিস্তি এবং সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। সঞ্চয় সেবার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে টেবিল আকারে প্রদান করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| সঞ্চয়ের মেয়াদ | ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর এবং ৪ বছর |
| মাসিক কিস্তির পরিমাণ | সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা |
| প্রয়োজনীয় নথি | কোনো কাগুজে নথি বা ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজন নেই |
| টাকা জমা পদ্ধতি | বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তন |
| টাকা উত্তোলন | মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ টাকা বিকাশে জমা এবং চার্জবিহীন ক্যাশ আউট |
| বন্ধ করার নিয়ম | প্রয়োজনে মেয়াদপূর্তির আগেই অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধ করার সুবিধা |
ডিপিএস খোলার পদ্ধতি
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস খোলা অত্যন্ত সহজ। এর জন্য গ্রাহককে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ আইকনে প্রবেশ করতে হবে।
২. এরপর ‘নতুন সেভিংস’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে।
৩. সেভিংসের ধরন হিসেবে ‘সাধারণ সেভিংস’ সিলেক্ট করে সঞ্চয়ের মেয়াদ ও টাকার পরিমাণ দিতে হবে।
৪. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে ‘ইস্টার্ন ব্যাংক’ বাছাই করতে হবে।
৫. নমিনির তথ্য প্রদান করে বিকাশ পিন নম্বর দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদন সফল হলে গ্রাহক সাথে সাথেই একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা বা কনফার্মেশন পাবেন।
ডিজিটাল সঞ্চয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট ও অগ্রগতি
বিকাশ ও সহযোগী ব্যাংকগুলোর এই উদ্যোগের ফলে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে আইডিএলসি ফিন্যান্সের হাত ধরে বিকাশে এই সেবার সূচনা হয়। বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংকসহ মোট পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই সেবা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
ব্র্যাক ব্যাংক
সিটি ব্যাংক
ঢাকা ব্যাংক
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)
ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল)
আইডিএলসি ফিন্যান্স
বিকাশের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ডিজিটাল মাধ্যমে ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস খোলা হয়েছে। তথ্যানুসারে, মোট সঞ্চয়কারীর ৩৪ শতাংশই নারী। এছাড়া গ্রাহকদের সুবিধাজনক সময়ে সঞ্চয় করার প্রবণতা বাড়ছে, কারণ প্রায় ৫৫ শতাংশ ডিপিএস খোলা হয়েছে ব্যাংকিং সময়ের বাইরে। বিকাশের এক অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর ৯৬ শতাংশ গ্রাহক পুনরায় একই পদ্ধতিতে সঞ্চয় করতে আগ্রহী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য
ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এম খোরশেদ আনোয়ার বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশজুড়ে সঞ্চয় সেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য হবে এবং ব্যাংকটি এক বিশাল গ্রাহক গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ জানান, কোনো ব্যাংক হিসাব বা কাগুজে নথির ঝামেলা ছাড়াই প্রান্তিক মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন সঞ্চয় করতে পারছেন। এটি দেশের ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকেরা যেমন ঘরে বসে সঞ্চয় করতে পারছেন, তেমনি মেয়াদ শেষে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই (ক্যাশ আউট চার্জ ছাড়া) টাকা হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন, যা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করছে।
