মে মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক গতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, আমদানি ব্যয় পরিশোধ, চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাবাজারে চাপ কমাতে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং শিল্প কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী আয়ের এই শক্তিশালী প্রবাহ অর্থনীতিকে স্বস্তি দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময় অর্থাৎ মে মাসের প্রথম তিন দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে প্রবাসীরা এখন আগের তুলনায় বেশি হারে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের প্রণোদনা ব্যবস্থা, হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ প্রেরণ ব্যবস্থা দমনে কঠোর নজরদারি, মোবাইল আর্থিক সেবার বিস্তার এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বর্তমানে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা প্রবাসীদের জন্য বাড়তি উৎসাহ হিসেবে কাজ করছে।
গত কয়েক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহেও শক্তিশালী ধারা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ একক মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
| সময়কাল | রেমিট্যান্সের পরিমাণ |
|---|---|
| জানুয়ারি | ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার |
| ফেব্রুয়ারি | ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার |
| মার্চ | ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার |
| এপ্রিল | ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ |
| মে (প্রথম ৩ দিন) | ৩১ কোটি ৫০ লাখ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাক রপ্তানির পরেই রেমিট্যান্স বৈদেশিক আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাদের মতে, বর্তমান এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতিতে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে।
