সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহত রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কোনো ধরনের অনীহা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র–সংক্রান্ত গ্রাহক অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জোরদার করতে বলা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে পাঠিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্র কিনতে নিরুৎসাহিত করছে। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা না দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে দেখা যাচ্ছে, কিছু তফসিলি ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত ইস্যু অফিস হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে। এটি সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭-এর অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান, সেবার মান বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দায়বদ্ধ। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে তাদের শাখা পর্যায়ের সঞ্চয়পত্র–সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকসেবার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রতিটি শাখার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে গ্রাহকরা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত হলেও বাকি তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে।

সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার এবং ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে আগ্রহীদের মধ্যে এ খাতের জনপ্রিয়তা বেশি। বর্তমানে মেয়াদ পূর্তির শর্তে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বার্ষিক মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের কার্যালয়ের পাশাপাশি অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকেও সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা, শাখা পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা এবং গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন