ঈদুল আজহায় ব্যাংক সাতদিন বন্ধ, শিল্পাঞ্চলে সীমিত সেবা চালু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারাদেশে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সরকারি ছুটির সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদপূর্ব সময়ে ব্যাংকিং লেনদেনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২৩ ও ২৪ মে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। ওই দুই দিনে ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত কার্যদিবসের মতোই লেনদেন ও গ্রাহকসেবা পরিচালিত হবে, যাতে ঈদের আগে প্রয়োজনীয় আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

ঈদকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস এবং অন্যান্য ভাতা পরিশোধ নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলের নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওই দুই দিনে এসব ব্যাংক শাখার অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এর মধ্যে লেনদেন কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এই সময়সূচির মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে নগদ অর্থ প্রবাহ সচল রাখা এবং শ্রমিকদের ঈদকালীন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব শাখায় প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত থাকবে, যাতে বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটির সময় অর্থাৎ ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী শাখা পর্যায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা পাবেন। এতে জরুরি সেবা প্রদানকারী ব্যাংক কর্মীদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান এবং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার মাধ্যমে ঈদকালীন সময়ে একদিকে যেমন গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সীমিত পরিসরে হলেও নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল ও বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমও সচল রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment