ঈদের ছুটিতে ব্যাংক কার্যক্রমে নতুন সময়সূচি ঘোষণা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আসন্ন সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ঈদের পর টানা সাত দিনের ছুটি কার্যকর হবে, যা শুরু হবে সোমবার (২৫ মে) থেকে এবং চলবে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক (ডিএফআইএম) আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঈদকালীন ছুটি, কার্যদিবস এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪ মে তারিখের স্মারকের আলোকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবসা কেন্দ্র, শাখা এবং বুথ ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ব্যাংকিং ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

তবে ঈদ-পূর্ব সময়ে গ্রাহকসেবা সচল রাখতে এবং আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রবিবার (২৪ মে) এসব প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফলে ঈদের আগে শেষ দুই কার্যদিবসে গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১(২)(ঘ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই ছুটি ও কার্যদিবস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই আইনি কাঠামোর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকিং খাতে সময়সূচি নির্ধারণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ-পূর্ব সময়ে ব্যাংকিং খাতে স্বাভাবিকভাবেই নগদ অর্থ উত্তোলন, রেমিট্যান্স লেনদেন এবং ব্যবসায়িক নিষ্পত্তির চাপ বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত কার্যদিবস নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সে কারণেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া টানা ছুটির সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব শাখা, উপশাখা, বুথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ এই সময়ে কোনো ধরনের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালিত হবে না। ফলে ঈদের আগেই গ্রাহকদের লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য সীমিত সময়সীমা কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে। ছুটি শেষে ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঈদ-পূর্ব ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং গ্রাহকসেবার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ ছুটির আগে আর্থিক লেনদেনের চাপ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করাও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment