জুলাই-জানুয়ারিতে অনলাইন ব্যাংক লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী

দেশের আর্থিক খাতে অনলাইনভিত্তিক ব্যাংকিং লেনদেন চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা গেছে। এই প্রবণতা দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে ডিজিটাল সেবার প্রতি ঝোঁক বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা বা ৩২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় পর্যায়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার ফলেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

ব্যাংকারদের মতে, দেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ক্রমাগত বাড়ছে এবং এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। উন্নত সেবার নির্ভরযোগ্যতা, মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার এবং ই-কমার্স খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ লেনদেন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে অনলাইন সেবার প্রতি আস্থা বৃদ্ধিও এ ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে গ্রাহকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রাহকেরা এখন ঘরে বসেই কিংবা বিদেশে অবস্থান করেও সহজে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন, যা তাদের ক্ষমতায়নকে বাড়িয়েছে।

ব্যাংকারদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, খুচরা গ্রাহকেরা দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে যেমন অর্থ স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং অনলাইন কেনাকাটায় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকেরা বেতন বিতরণ, সরবরাহকারীদের পরিশোধ এবং বৃহৎ পরিমাণ লেনদেন ক্রমশ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাতে ডিজিটাল রূপান্তর জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নগদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং লেনদেনের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উন্নত পেমেন্ট অবকাঠামো, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং ডিজিটাল ব্যবহারে প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করেছে।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলে সীমিত ইন্টারনেট সুবিধা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি এখনও ব্যাপক ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারির সময় শারীরিক চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

নিম্নে সংশ্লিষ্ট সময়ের লেনদেন বৃদ্ধির সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—

সূচকপরিমাণ
সময়কালজুলাই-জানুয়ারি, ২০২৫-২৬ অর্থবছর
মোট বৃদ্ধিপ্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা
প্রবৃদ্ধির হার৩২ শতাংশের বেশি
প্রধান কারণমোবাইল ইন্টারনেট বিস্তার, সেবার উন্নয়ন, ই-কমার্স সম্প্রসারণ
প্রধান ব্যবহারকারীব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক

এই তথ্যসমূহ থেকে স্পষ্ট যে দেশের আর্থিক খাতে অনলাইনভিত্তিক লেনদেন ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment