আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের বিস্তার রোধে কঠোর ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোরবানির পশু কেনাবেচাকে ঘিরে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র জাল নোট ছড়িয়ে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে—এমন শঙ্কা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের সব প্রধান পশুর হাটে নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করা হবে। এসব বুথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঈদের আগের রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করবে। প্রতিটি ব্যাংককে একজন করে সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে এবং তাঁর নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বুথ পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে হাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাল নোট শনাক্তকরণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনস্থ পশুর হাটগুলোতে আলাদা আলাদাভাবে ব্যাংক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাটগুলোতে একাধিক ব্যাংক দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি হাটে মোট ১৯টি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো দায়িত্ব বণ্টন করবে। যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে দায়িত্ব সমন্বয় করবে সোনালী ব্যাংক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুর হাটে নগদ লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতারা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক নোট যাচাই করতে পারবেন এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।
নিচে নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপস্থাপন করা হলো—
| কার্যক্রম | বিস্তারিত নির্দেশনা |
|---|---|
| বুথ পরিচালনার সময় | ঈদের আগের রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সেবা |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান | বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ |
| সমন্বয়কারী তথ্য জমা | নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে |
| প্রয়োজনীয় তথ্য | নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর |
| সহযোগী সংস্থা | স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী |
ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ শুধু জাল নোট প্রতিরোধেই নয়, বরং নগদ অর্থভিত্তিক বাজার ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে। ঈদের মতো বৃহৎ অর্থনৈতিক লেনদেনের সময়ে এমন ব্যবস্থা বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে।
