দেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা গ্রহণ ও তথ্য আদান–প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হচ্ছে। চলমান এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৩টি দেশে পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২১টি অনুরোধ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, জব্দ এবং দেশে ফেরত আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু অর্থ উদ্ধারই নয়, ভবিষ্যতে অর্থপাচার প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার এ কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নীতিগত নির্দেশনা প্রদান ও কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে। এতে তদন্ত ও তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মামলায় অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক, লেনদেনের ধরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শনাক্তে একাধিক যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে। এই দলগুলোর নেতৃত্বে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বড় অঙ্কের পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব। তাই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও আইনগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে তথ্য আদান–প্রদান ও সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
অগ্রগতির সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধ প্রেরণ | ২৩টি দেশ |
| প্রক্রিয়াধীন অনুরোধ | ২১টি |
| আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি | ১টি (১২ সদস্য) |
| অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা | ১১টি |
| গঠিত যৌথ তদন্ত দল | ১১টি |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা মনে করেন, কেবল নীতিগত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো, আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা দ্রুত পাওয়া এবং দেশীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
তাদের মতে, অনেক সময় বিদেশি আইনি জটিলতা ও তথ্য বিনিময়ের ধীরগতির কারণে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। তাই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সমঝোতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সরকার আশাবাদী যে চলমান এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে এবং ভবিষ্যতে অর্থপাচারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
