মানি লন্ডারিং অভিযুক্তদের ব্যাংক বোর্ডে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিদেশে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দেশের কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পুনরায় ফিরতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি ব্যাংক খাত সংস্কারসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অধ্যাদেশের কিছু বিধান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য জনসাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অতীতে আর্থিক অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিরা ব্যাংক খাতে পুনর্বাসিত হতে পারবেন কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে আরিফ হোসেন খান স্পষ্ট করেন যে, এমন কোনো সুযোগ নেই যার মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাংকের মালিকানা বা ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে অনিয়মে জড়িতদের ব্যাংক খাতে পুনরাগমনের আশঙ্কা নিয়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা সঠিক নয়।

অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাদের বকেয়া দায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধের একটি বিধান রয়েছে। তবে এটি কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় বা নির্বিচারে প্রযোজ্য সুযোগ নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের আবেদন কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ কার্যত বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে বিদ্যমান বিভ্রান্তি নিরসনেও এ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment