চলতি মে মাসের প্রথম চার দিনেই দেশের প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ে দেশে এসেছে ৪৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয়। প্রতিদিন গড়ে প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রবাসী আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই সময়ে দেশে এসেছিল প্রায় ৩১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অর্থনীতিবিদরা মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ, বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থপাচার ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে দেওয়া প্রণোদনা সুবিধাও বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ যোগাচ্ছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে স্থিতিশীলতা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়াও এই প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে নির্মাণ, সেবা ও গৃহকর্ম খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীদের আয় দেশে পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবাসী আয়ের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
| সময়কাল | প্রবাসী আয় (মার্কিন ডলার) |
|---|---|
| মে (প্রথম ৪ দিন) | ৪৫ কোটি ৬০ লাখ |
| এপ্রিল | ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ |
| মার্চ | ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ |
| ফেব্রুয়ারি | ৩০২ কোটি ৭০ লাখ |
| জানুয়ারি | ৩১৭ কোটি ৯ লাখ |
| ডিসেম্বর | ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ |
| নভেম্বর | ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ |
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে মাসভিত্তিক কিছু ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা প্রশমিত হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
