এনসিসি ব্যাংকের ৩৩ বছরে রূপান্তরের নতুন প্রত্যয়

টেকসই প্রবৃদ্ধি, গ্রাহকের আস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রত্যয় নিয়ে ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছে এনসিসি ব্যাংক। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির দীর্ঘ পথচলা, দেশের আর্থিক খাতে অবদান, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং রূপান্তরমুখী বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরা হয়। গত ১৭ মে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন। সভায় ব্যাংকের অগ্রগতি, সুশাসনভিত্তিক পরিচালনা, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান তানজিনা আলী, পরিচালক সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দিন ও মোরশেদুল আলম চাকলাদার, স্বতন্ত্র পরিচালক মীর সাজেদ উল বাসার এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. হাবিবুর রহমানসহ প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত শাখা ব্যবস্থাপকেরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন, ১৯৯৩ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এনসিসি ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩৩ বছরে ব্যাংকটি সুশাসন, গ্রাহকের আস্থা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছে। তার মতে, এই ধারাবাহিকতা ব্যাংকটিকে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শাখা এবং ৩২টি ইসলামি উইন্ডো চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদাভিত্তিক বিকল্প ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন বলেন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে ভিত্তি করে এনসিসি ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। তিনি জানান, আমানত ও ঋণ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল রূপান্তর, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা এবং টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রাহকদের যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে নির্বিঘ্ন ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকটি এআইভিত্তিক ব্যক্তিগতকৃত ব্যাংকিং সেবা, বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা, ভার্চুয়াল কার্ড এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্যাংকের শরীআহ্ সুপারভাইজরী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম বারাকাতী ব্যাংকের অব্যাহত সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও সাফল্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এনসিসি ব্যাংক কয়েকটি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে পরিবেশগত বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য আয়বর্ধক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৩৩ বছরের পথচলায় এনসিসি ব্যাংক প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ এবং শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, তা ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর ভাবনাকে প্রতিফলিত করছে।

Leave a Comment