বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গভর্নর মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত নতুন নোট বাজারে অবমুক্ত করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গতকাল সোমবার থেকে এই নতুন ব্যাংকনোটগুলো প্রাথমিকভাবে কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকেও এই নতুন নোটগুলো সংগ্রহ করা যাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ১০০০ টাকা, ৫০০ টাকা এবং ১০ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর যুক্ত করে পুনরায় মুদ্রণ করা হয়েছে। এর পরবর্তী ধাপে ২০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো নতুন স্বাক্ষরে বাজারে ছাড়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন নোটগুলোতে শুধুমাত্র গভর্নরের স্বাক্ষরের পরিবর্তন এসেছে; বিদ্যমান নকশার রঙ, নিরাপত্তা সুতা এবং কাগজের আকৃতি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ১ টাকা, ২ টাকা এবং ৫ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো এই নতুন নকশায় এখনও মুদ্রণ করা হয়নি।
নতুন ব্যাংকনোটের প্রথম দফার বিবরণী, মূল্যমান ও নকশার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ব্যাংকনোটের বিবরণ ও সূচকসমূহ | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণী |
| নতুন গভর্নরের নাম | মোস্তাফিজুর রহমান (দায়িত্ব গ্রহণ: ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) |
| নোট অবমুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ | সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) |
| প্রাথমিক বিতরণ কেন্দ্র | বাংলাদেশ ব্যাংক, মতিঝিল কার্যালয় |
| প্রথম দফায় অবমুক্ত মূল্যমান | ১০০০ টাকা, ৫০০ টাকা এবং ১০ টাকা |
| পরবর্তী দফায় অবমুক্তব্য মূল্যমান | ২০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকা |
| অপরিবর্তিত বিষয়সমূহ | রঙ, নিরাপত্তা সুতা এবং কাগজের আকৃতি |
| আপাতত অপরিবর্তিত নোটসমূহ | ১ টাকা, ২ টাকা এবং ৫ টাকা |
| নতুন নোটের মূল প্রতিপাদ্য | বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য |
এই নতুন নোটের প্রচলন মূলত একটি বড় ধরনের নকশা পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কারেন্সি নোটের পূর্ববর্তী নকশায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ব্যাংকনোট থেকে স্বাধীনতা স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি অপসারণ করা হয়।
নোটের নতুন নকশার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য”। এই নতুন প্রতিপাদ্য ও নকশার নোটগুলো সর্বপ্রথম সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরসহ বাজারে প্রবর্তন করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান গভর্নর মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত নতুন সংস্করণগুলো পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাজারে থাকা পুরাতন নোটগুলোও সমানভাবে সচল থাকবে এবং নতুন নোটগুলো ক্রমান্বয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে লেনদেনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
