বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০.৪৬ বিলিয়ন

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২১ এপ্রিল রাত পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রিজার্ভে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এবং নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, রিজার্ভের এই বর্তমান অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। তিনি নিশ্চিত করেন যে আগের হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহ থেকে সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ক্রয় করেছে। এই ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া জানা যায়, আগামী মাসে এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের পাওনা পরিশোধ করতে হবে। এই পরিশোধের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার ক্রয় করে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা করেছে। এ ধরনের পরিশোধ সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর সম্পন্ন হয় এবং এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সরাসরি প্রভাব পড়ে।

রিজার্ভের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট লেনদেন নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়পরিমাণ / তথ্য
সর্বশেষ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ৩০.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
আগের রিজার্ভ৩০.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
রিজার্ভ বৃদ্ধির পরিমাণ০.০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
সাম্প্রতিক ডলার ক্রয়১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি
ক্রয়ের সময়কালগত সপ্তাহ থেকে সোমবার পর্যন্ত
আসন্ন পরিশোধএশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন
পরিশোধের সময়আগামী মাস

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ডলার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক পরিশোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারে তারল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ডলার ক্রয় এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক পরিশোধের প্রস্তুতির কারণে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের এই অবস্থান সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতারই অংশ।

Leave a Comment