ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে প্রথম ডিজিটাল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই ইন্টারনেট ঋণ ‘সাফল্য’ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক সম্প্রতি দেশের ছয়টি জেলায় উদ্যোক্তা সম্মেলনের একটি ধারাবাহিক সিরিজ আয়োজন করেছে। এই বিশেষ আয়োজনটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ‘সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ’ শিরোনামের এই গণযোগাযোগ কার্যক্রমে গাজীপুর, দিনাজপুর, শেরপুর, জামালপুর, সৈয়দপুর এবং রাজশাহী জেলার ৬০০ জনেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুততম সময়ে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে এবং কোনো ধরণের কাগজের ব্যবহার ছাড়াই ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করা।

সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম

উদ্যোক্তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিপুল অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত কার্যকর ও অর্থপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্বখ্যাত গেটস ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তায় দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য এই বিশেষ ইন্টারনেট বা ই-ঋণ সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ’ আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মূল দিকটি ছিল অনুষ্ঠান স্থলেই সরাসরি বা লাইভ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ‘সাফল্য’ ঋণের অর্থ আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে বিতরণ করা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এই ধরণের তাৎক্ষণিক ঋণ বিতরণ কার্যক্রম এটিই প্রথম, যা ব্র্যাক ব্যাংকের ই-ঋণ সক্ষমতার গতি, স্বচ্ছতা এবং পরম দক্ষতাকে সাধারণ মানুষের সামনে প্রমাণ করেছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সরাসরি তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে, যাতে ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও উন্নত এবং গ্রাহকবান্ধব করা যায়।

নিচে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘সাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ’ এবং ঋণ সেবার বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ও সহযোগীসমাবেশের সুনির্দিষ্ট নামমোট জেলা ও সংখ্যাঅংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তার সংখ্যাঋণের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
ব্র্যাক ব্যাংক এবং গেটস ফাউন্ডেশনসাফল্য উদ্যোক্তা সমাবেশ৬টি জেলা৬০০ জনেরও বেশিদ্রুতগতির, স্বচ্ছ এবং কাগজবিহীন ঋণ

সমাবেশে অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

ব্র্যাক ব্যাংকের এই ধারাবাহিক সম্মেলনটি দেশের মোট ছয়টি প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলাগুলো হলো—গাজীপুর, দিনাজপুর, শেরপুর, জামালপুর, সৈয়দপুর এবং রাজশাহী। এই অঞ্চলগুলোর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সাধারণত ঐতিহ্যগত ঋণ ব্যবস্থার জটিল কাগজপত্রের কারণে সঠিক সময়ে মূলধন পান না। ব্র্যাক ব্যাংক তাদের এই ‘সাফল্য’ ই-ঋণ প্রযুক্তির মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।

সমাবেশের অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রযুক্তির সাহায্যে যেভাবে সরাসরি ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ প্রক্রিয়াটি দেখানো হয়েছে, তা উপস্থিত উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের দেওয়া সরাসরি প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে এই ঋণ সেবার কারিগরি দিকগুলো আরও সহজতর করা হবে, যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও তাঁর মুঠোফোনের মাধ্যমে খুব সহজে ঋণের আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন।

নিচে ‘সাফল্য’ ই-ঋণ সেবার ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও লক্ষ্যমাত্রার বিবরণ ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:

আয়োজিত জেলাসমূহের নামঋণের ধরণ ও প্রযুক্তিপ্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যআর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রভাব
গাজীপুর, দিনাজপুর, শেরপুর, জামালপুর, সৈয়দপুর ও রাজশাহীক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই ই-ঋণদেশব্যাপী ই-ঋণ সেবার সচেতনতা বৃদ্ধিপ্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে অনেক সময় উদ্যোক্তারা ঝরে পড়েন। ব্র্যাক ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের এই যৌথ প্রয়াস কেবল ঋণ বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রমে অভ্যস্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কাগজের ব্যবহার ছাড়া বা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন এই ঋণ পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং বা সবুজ ব্যাংকিং ব্যবস্থারও একটি অনন্য উদাহরণ। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উদ্যোক্তাদের এই মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আগামী দিনগুলোতে ডিজিটাল ঋণের পরিধি দেশের অন্যান্য জেলাতেও দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি অবদান রাখবে।

Leave a Comment