চলতি ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম তেরো দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের এক শক্তিশালী প্রবাহ পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বৈধ পথে দেশে পাঠিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী দেশীয় মুদ্রায় এই আয়ের পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসীদের প্রেরিত আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Table of Contents
প্রবৃদ্ধি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, গত বছরের মে মাসের প্রথম তেরো দিনে দেশে ১২৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার এসেছিল। সেই তুলনায় এ বছরের একই সময়ে আয় বেড়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। দৈনিক গড় আয়ের হিসাবেও এ মাসে বড় অগ্রগতি হয়েছে। মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার দেশে এসেছে।
অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৩ মে পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত অর্থবছরের প্রথম সাড়ে দশ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্নে প্রবাসী আয়ের একটি তুলনামূলক সারণি উপস্থাপন করা হলো:
| সময়কাল | আয়ের পরিমাণ (মার্কিন ডলারে) | প্রবৃদ্ধির হার |
| ২০২৫ মে (১-১৩ তারিখ) | ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার | – |
| ২০২৬ মে (১-১৩ তারিখ) | ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার | ৩৭.৫% (গত বছরের তুলনায়) |
| ২০২৪-২৫ অর্থবছর (১ জুলাই – ১৩ মে) | ২,৫৮০ কোটি ৫০ লাখ ডলার | – |
| ২০২৫-২৬ অর্থবছর (১ জুলাই – ১৩ মে) | ৩,১০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার | ২০.৪% |
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রেকর্ড
চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের অনেক রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত মার্চ মাসে দেশে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। একক মাস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড। বর্তমান মে মাসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মাস শেষে এই আয় বড় কোনো মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক তাৎপর্য
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে বিভিন্ন প্রণোদনা এবং বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী আয়ে এই ইতিবাচক গতি সঞ্চার হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তেরো মে পর্যন্ত আহরিত ৩ হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের আয়ের এই প্রবাহ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারে সামঞ্জস্য আনা। মে মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা চলতি অর্থবছরের শেষে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে। বর্তমান এই প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসীদের প্রেরিত এই অর্থ মূলত ঈদ-পরবর্তী পারিবারিক চাহিদা এবং দেশীয় বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে অর্থের সঞ্চালন বৃদ্ধি করছে।
