রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য দেখা গেছে। একসময় দেশের শিল্পায়ন ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব ব্যাংক বর্তমানে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণের চাপের কারণে ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক চিত্র উপস্থাপন করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেখা যায়, সোনালী ব্যাংক মুনাফায় শীর্ষে থাকলেও জনতা ব্যাংক বড় অঙ্কের লোকসানে রয়েছে। একই সঙ্গে অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে।
সোনালী ব্যাংক বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৯৮৮ কোটি টাকা, যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ব্যাংকটি সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই মুনাফার বড় অংশ অর্জন করেছে। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি নেই এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাতেও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটাপন্ন। বড় গ্রাহকদের খেলাপি ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক চাপ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে ২০২৪ সালের শেষে ব্যাংকটির লোকসান দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, এস আলম, এননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও জনকণ্ঠ গ্রুপ।
অগ্রণী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও আর্থিক চিত্র মিশ্র। ২০২৪ সালে ৯২৫ কোটি টাকা লোকসানের পর পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ৫৮ কোটি টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। তবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি থাকায় প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে চাপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইভাবে রূপালী ব্যাংকও সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে, যার পরিমাণ ২০২৪ সালে ১১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা থেকে কমে পরবর্তী সময়ে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
নিচের টেবিলে ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| ব্যাংকের নাম | ২০২৪ সালের ফলাফল | সর্বশেষ ফলাফল | মূল পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| সোনালী ব্যাংক | ৯৮৮ কোটি টাকা মুনাফা | ১,৩১৩ কোটি টাকা মুনাফা | স্থিতিশীল, বিল-বন্ড নির্ভর আয় |
| জনতা ব্যাংক | ৩,০৬৬ কোটি টাকা লোকসান | ৩,৯৩১ কোটি টাকা লোকসান | প্রায় ৭০% খেলাপি ঋণ |
| অগ্রণী ব্যাংক | ৯২৫ কোটি টাকা লোকসান | ৫৮ কোটি টাকা মুনাফা | ১৫,০০০ কোটি ঘাটতি |
| রূপালী ব্যাংক | ১১.৩৯ কোটি টাকা মুনাফা | ৬.৮০ কোটি টাকা মুনাফা | খেলাপি ঋণ চাপযুক্ত |
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ ও সঞ্চিতির ঘাটতি ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।
