ঢাকার মোতিজাহেলস্থ সিটি সেন্টার অফিসে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চতুর্থ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডঃ মোহাম্মদ আয়ুব মিয়া সভাপতিত্বে বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। ব্যাংকের সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই সভায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজোলিউশন ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষক হিসেবে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলমান কৌশলগত ও কার্যক্রমিক উদ্যোগসমূহ, বিশেষভাবে ব্যাংকের একত্রীকরণ বা মার্জার প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম একীভূত করা এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নত করা।
অতীতের তুলনায় বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে, বৈঠকে বর্তমানে মার্জার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে সংযুক্তি পরিকল্পনা, কার্যক্রম সমন্বয় এবং নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড নিশ্চিতকরণ নিয়ে। ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা এবং নিয়মিত মান বজায় রাখতে প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সভায় আর্থিক কার্যকারিতা পর্যালোচনা, শাখা সম্প্রসারণ সম্পর্কিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন এবং উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বোর্ড শারিয়াহ-সম্মত ব্যাংকিং নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, যা সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং চর্চার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
চতুর্থ বোর্ড বৈঠকের প্রধান অংশগ্রহণকারীরা:
| অংশগ্রহণকারীর ধরন | নাম / পদবী |
|---|---|
| চেয়ারম্যান | ডঃ মোহাম্মদ আয়ুব মিয়া |
| পরিচালনা পর্ষদ | ব্যাংকের সকল বোর্ড সদস্য |
| নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষক | নির্বাহী পরিচালক, ব্যাংক রেজোলিউশন ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক |
| আমন্ত্রিত প্রশাসক | মার্জার প্রক্রিয়ায় থাকা ৫টি ব্যাংকের প্রশাসক |
সভা শেষ হয় ব্যাংকের কৌশলগত দিকনির্দেশ পুনঃপ্রকাশের মাধ্যমে, যেখানে কার্যক্রমের দক্ষতা, গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন এবং মার্জারকৃত ব্যাংকগুলোর সুষ্ঠু সংমিশ্রণকে কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যৎ বোর্ড সভায় অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং দিকনির্দেশনা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকরা এই চতুর্থ বোর্ড বৈঠককে ব্যাংকের চলমান রূপান্তর ও সংযুক্তি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এটি বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং খাতে সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৃদ্ধির অঙ্গীকার, নিয়ন্ত্রক মেনে চলা এবং সেবার উৎকর্ষতার প্রদর্শন।
