বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি লাভ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি ছিল প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি। তবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখনও চলতি হিসাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল প্রবাসী আয় ৩৮.১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ফ্রি-অন-বোর্ড ভিত্তিতে রপ্তানি আয়ের ১৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি। যদিও এই উন্নতি হয়েছে, চলতি হিসাব এখনও সামান্য ঘাটতি সহ টাকার ১৫.১ বিলিয়ন রেকর্ড করেছে।
বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২.৪৭ ট্রিলিয়ন টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের বছরের ২.৪৯ ট্রিলিয়ন টাকার তুলনায় সামান্য কম। এক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “রপ্তানি বৃদ্ধির গতি আমদানি বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হওয়ায় কিছুটা বহির্মুখী চাপ হ্রাস পেয়েছে।”
রপ্তানি আয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫.৩১ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে। তবে আমদানি ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের শিল্পজাত পণ্যের জন্য বিদেশী দ্রব্যের উপর নির্ভরতা নির্দেশ করছে।
প্রবাসী আয় প্রধানভাবে চালিত দ্বিতীয়িক আয় ৩.৭৫ ট্রিলিয়ন টাকা অর্জন করেছে, যা বহির্মুখী ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসাবে কাজ করেছে। তবে বাণিজ্য (৬৮৮.১ বিলিয়ন টাকা), সেবা এবং প্রাথমিক আয়ের (৬০৯.৮ বিলিয়ন টাকা) বড় আউটফ্লো চলতি হিসাবের চাপকে কমাতে পারছে না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদিও রপ্তানি এবং আমদানি উভয়ই স্থিরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, আমদানি বৃদ্ধি রপ্তানির চেয়ে বেশি হওয়ায় কাঠামোগতভাবে বাণিজ্য ঘাটতি উচ্চ থাকে। স্বাধীন অর্থনীতিবিদ ডঃ জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, “উন্নতি স্বস্তিদায়ক হলেও তা ভঙ্গুর। রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া চলতি হিসাবের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশের বাণিজ্যে একীকরণের গভীরতা নির্দেশ করে যে, উভয় রপ্তানি ও আমদানি ভলিউম স্থিরভাবে বাড়ছে। তবে চলতি হিসাবের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ, যেমন ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল পরিসংখ্যান
| সূচক | পরিমাণ (টাকা) | বছরগত পরিবর্তন (%) |
|---|---|---|
| রপ্তানি আয় | ৫.৩১ ট্রিলিয়ন | +১৭.১ |
| আমদানি | ৭.৭৮ ট্রিলিয়ন | +৩.৯ |
| বাণিজ্য ঘাটতি | ২.৪৭ ট্রিলিয়ন | -০.৮ |
| প্রবাসী আয় | ৩.৭৫ ট্রিলিয়ন | +৩৮.১ |
| চলতি হিসাব ঘাটতি | ১৫.১ বিলিয়ন | – |
এই তথ্য প্রমাণ করে যে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রবাসী আয় এবং রপ্তানির ধারাবাহিক বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমদানি চাহিদা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা এখনও দেশের বহির্মুখী ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
