শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত দুই হাজার পঁচিশ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
গত মঙ্গলবার, আটাশ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই লভ্যাংশ সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার উনত্রিশ এপ্রিল তারিখে শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী আলোচ্য বছরে ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই টাকা পঁয়ষট্টি পয়সা, যেখানে পূর্ববর্তী হিসাব বছরে তা ছিল এক টাকা একুশ পয়সা। এতে বোঝা যায় যে ব্যাংকটির লাভজনকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সময়ে ব্যাংকটির নগদ অর্থ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ দাঁড়িয়েছে একুশ টাকা উনত্রিশ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ঋণাত্মক সতেরো টাকা চৌষট্টি পয়সা ছিল। এই পরিবর্তন ব্যাংকের নগদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন দক্ষতার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
নিট সম্পদের ক্ষেত্রেও ব্যাংকটি উন্নতি করেছে। ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে তেইশ টাকা চৌষট্টি পয়সা, যা আগের বছর ছিল একুশ টাকা সাতচল্লিশ পয়সা। এটি ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার নির্দেশক।
লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী পঁচিশ জুন দুপুর সাড়ে বারোটায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ঘোষিত লভ্যাংশ কার্যকর হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আঠারো মে।
নিচে প্রধান আর্থিক সূচকের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক | ২০২৫ হিসাব বছর | আগের হিসাব বছর |
|---|---|---|
| শেয়ারপ্রতি আয় | ২ টাকা ৬৫ পয়সা | ১ টাকা ২১ পয়সা |
| শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ | ২১ টাকা ২৯ পয়সা | ঋণাত্মক ১৭ টাকা ৬৪ পয়সা |
| শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য | ২৩ টাকা ৬৪ পয়সা | ২১ টাকা ৪৭ পয়সা |
সমগ্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য হিসাব বছরে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি আর্থিকভাবে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। লাভ বৃদ্ধি, নগদ প্রবাহের উন্নতি এবং সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
